জঙ্গি দমনের যুদ্ধে ইউরোপ-আমেরিকার থেকেও শেখ হাসিনার সরকার এগিয়ে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার নিজ বাসভবনে জাসদ নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপার্সনের সঙ্গে জঙ্গিদের স¤পর্ক রয়েছে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বেগম জিয়া জঙ্গিদের সঙ্গে স¤পর্ক ত্যাগ করলে আমরা জঙ্গি দমনে এগিয়ে যেতে পারতাম। তারা জঙ্গি দমনের যুদ্ধে না থেকে জঙ্গিদের পক্ষেই আছেন। তবে জঙ্গি কর্মকান্ডে এবং এর পেছনে যারা আছে তাদেরকে বিচারের সম্মুখীন করা হবে। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন স¤পর্কে ইনু বলেন, বিএনপির নেতৃবৃন্দকে স্বীকার করে নেয়া উচিত যে তারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও তারা জঙ্গিসঙ্গ ত্যাগ করেনি। সারাবিশ্বে ২৫৯ সাংবাদিক কারাগারে চলতি বছরের ১ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত সারা বিশ্বে ২৫৯ জন সাংবাদিক কারাগারে আছেন। এর মধ্যে তুরস্কেই অন্তত ৮১ জন। ১৯৯০ সাল থেকে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে) এ-সংক্রান্ত বার্ষিক শুমারি শুরু করার পর থেকে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। স্বাধীন ও অলাভজনক এই সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করে। ২০১৪ ও ১৫ সালে যে চীন সাংবাদিকদের জন্য বিশ্বের নিকৃষ্ট কারাগার ছিল, সেই দেশ এবার দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে এসেছে। এ বছর দেশটিতে ৩৮ জন সাংবাদিক কারাগারে রয়েছেন। আর মিসর, ইরিত্রিয়া ও ইথিওপিয়া যথাক্রমে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে। পুরো বিশ্বের যত সাংবাদিক কারাগারে বন্দী, তাদের তিন ভাগের দুই ভাগই এই পাঁচটি দেশের। সিপিজের নির্বাহী পরিচালক জোয়েল সিমন বলেন, সাংবাদিকেরা তথ্য সংগ্রহ ও আদান-প্রদান করে থাকেন, যা মূলত জনগণের সেবা করা। আর আন্তর্জাতিক আইনে তাদের এসব অধিকারকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বিভিন্ন দেশের সরকার সাংবাদিকদের কারাগারে পাঠিয়ে ও সমালোচনাকে দমনের মধ্য দিয়ে তাদের আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। সিপিজের হিসাবে ২৫৯ জন সাংবাদিকের তিন-চতুর্থাংশ রাষ্ট্রবিরোধী অভিযোগের মুখোমুখি। এর প্রায় ২০ শতাংশ সাংবাদিক ফ্রিল্যান্সার। আর বেশির ভাগ সাংবাদিকই অনলাইনে বা প্রিন্টে কাজ করেন এবং প্রায় ১৪ শতাংশ সম্প্রচার সাংবাদিক। শুধু সরকারি হিসাবে যাদের আটক করার তথ্য রয়েছে, তাদেরই এই শুমারিতে আনা হয়েছে। যারা নিখোঁজ বা বেসরকারি কোনো সংস্থা ধরে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ আছে, তাদের এই গণনায় আনা হয়নি।

