চাঁদ মামা প্রতারক সোহেল  ভারতে মঈদুল্লাহ গাজী!

0
1040

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ইভ্যালি আদলে খুলেছিলেন ‘চাঁদ মামা’ ই-কমার্স। ৬৪ জেলায় নিয়োগ দিয়েছিলেন এজেন্ট। এজেন্টদের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছেন প্রতিবেশি দেশ ভারতে। সেখানে গিয়েও শুরু করেছেন একাধিক প্রতারণা ব্যবসা। তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন নানা কাজে ভারতে যাওয়া একাধিক বাংলাদেশী। প্রতারিতদের কেউ কেউ ভারতের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে করেছেন লিখিত অভিযোগ।

Advertisement

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আলোচিত এই প্রতারকের নাম খুলনা মোল্লারহাটের শরিফুল ইসলাম। যদিও ‘চাঁদ মামা’ নামে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান খোলার সময় নিজের নাম পাল্টে রাখেন আরমান গাজী। এর আগে বিয়ের কাগজপত্রে নিজের নাম লেখেন সোহেল আরমান। ২০২০ সালের মার্চে করোনার প্রেক্ষাপটে স্থল সীমান্ত বন্ধ হওয়ার আগে স্ত্রী ও এক ছেলেকে দেশে রেখে ভারতে পাড়ি জমান শরিফুল ওরফে সোহেল ওরফে আরমান ওরফে মঈদুল্লাহ গাজী। তার প্যান কার্ড নাম্বার উকইচএ৩০৮৮ঘ. আধার নাম্বার ৬৭৮৫৪২০৭৬১২৬ ঠওউ: ৯১৫১৬৭২৮৮৬১২২৯৩৮, ভারতীয় পাসপোর্ট নাম্বার ঠ৩৪৮৭১৯৬, ওংংঁ ফধঃব ১০/১১/২০২১, ঊীঢ়রৎবফ ফধঃব ০৯/১১/২০৩১। এছাড়া তার ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে ঈড়ঃধশ সধযরহফৎধ নধহশ, ঐউঋঈ ইধহশ, ঝইও ধপপড়ঁহঃ, অীরং নধহশ-এ একাউন্ট রয়েছে।

পাসপোর্ট ছাড়া অবৈধভাবে ভারতে ঢুকে সোহেল ওরফে মঈদুল্লাহ গাজী নিজেকে বার্বুচি হিসেবে পরিচয় দিতে থাকে। একপর্যায়ে একটি রেস্টুরেন্টে বার্বুচির কাজ শুরু করে সে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে সে নিজেকে কম্পিউটার এক্সপার্ট হিসেবে জাহির করে। একপর্যায়ে হোটেল কর্মচারির পরিচয়ের আড়ালে শুরু করে অনলাইনে কোভিড-১৯ এর ভুয়া  সনদ দেয়ার কাজ। প্রতিটি সনদের বিপরীতে মঈদুল্লাহ গাজী ৬০০ থেকে ১২শ’ রুপি পর্যন্ত নিতে থাকে। মূলত বাংলাদেশী যাত্রীরা বর্ডার পার, এয়ারপোর্ট পার ও ভারতের অভ্যন্তরীণ যাতায়াতে এ ভুয়া সনদ ব্যবহার করে। ভুয়া সনদ নিয়ে কেউ ধরা পড়লে মঈদুল্লাহ গাজী ৫ গুণ টাকা দিয়ে যাত্রীদের ছেড়ে দেয়ার ব্যবস্থা করে।

সূত্র জানায়, একের পর এক অবৈধ কাজে জড়িত থাকার একপর্যায়ে মঈদুল্লাহ সিদ্ধান্ত নেয়-সে ভারতীয় প্যান কার্ড, আধার কার্ড ও পাসপোর্টের ব্যবসা করার। বাংলাদেশ থেকে কেউ ভারত গেলে মঈদুল্লাহ গাজী তাদের শর্টকাট পথে ভারতীয় প্যান কার্ড, আধার কার্ড, পাসপোর্ট করার পথ দেখায়। কী কী সুবিধা মিলবে-তার বিবরণ দেয়। এভাবে সে মক্কেল ধরে। মক্কেলের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে সে প্রথমে মক্কেলের বাবা-মা’র নাম বদল করে। একই সঙ্গে বয়স ১০ বছর কমিয়ে প্যান কার্ড, আধার কার্ড করে।

পাসপোর্ট পর্যন্ত প্যাকেজ আকারে সে মক্কেলদের কাছ থেকে নেয় ১ লাখ ২০ রুপি। সূত্র জানায়, ভুয়া কোভিড সনদ, প্যান কার্ড, আধার কার্ড, পাসপোর্টের কাজসহ মানবপাচার, হুন্ডি ব্যবসা করে মঈদুল্লাহ গাজী এরই মধ্যে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা।

অবৈধ সব কাজ হাতে নেয়ার সময় মঈদুল্লাহ গাজী নিজের পরিচয় দেয়-সে আসামের এক মন্ত্রী পরিবারের জামাই। তার স্ত্রী একজন চিকিৎসক। এ কারণে চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র তৈরি করা তার জন্য সবচেয়ে সহজ কাজ।

এসব করেই ক্ষান্ত দেয় না মঈদুল্লাহ গাজী। একপর্যায়ে বাংলাদেশ টুরস এন্ড ট্রাভেলস নামে ২০ মারকুইস স্ট্রিটে একটা দোকান নেয়। এ দোকান থেকে শুরু করে মানবপাচারের ব্যবসা। আড়ালে  একই সঙ্গে হুন্ডির ব্যবসাও আরম্ভ করে সে। মাল্টা ও রোমানিয়া পাঠানোর কথা বলে সে শত শত বাংলাদেশীকে অবৈধভাবে ভারতে পার করে নেয়।

সূত্র জানায়, মঈদুল্লাহ গাজী গোপনে মাঝে মধ্যেই বাংলাদেশে আসে। মক্কেল গুছিয়ে আবার ভারতে ঢুকে পড়ে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় পুলিশ, কোর্ট, সিবিআই দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, শুরুর দিকে সে পরিচয় দিত- বহুল আলোচিত পি কে হালদারের সঙ্গে তার আর্থিক ব্যবসা রয়েছে। রয়েছে বাংলাদেশের বড় বড় মার্চেন্টদের সঙ্গে পরিচয়। এসব পরিচয় ভাঙিয়ে মঈদুল্লাহ গাজী এখন ইউরোপে সেটেল্ড হওয়ার চেষ্টায় ভারতে বসে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এর অংশ হিসেবে সে ভারতীয় মাফিয়াদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here