ঢাকার দোহার উপজেলায় নুরুল্লাহপুরে বার্ষিক ওরস শরীফকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে চলছে জুয়া ও গাঁজার আসর। সেইসাথে ভ্যারাইটিস শোর নামে অশ্লীলভাবে নাচানো হচ্ছে যুবতী মেয়েদের। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই শুরু হয় এসব কর্মকান্ড। জানা যায়, প্রতিবছর মাঘী পূর্ণিমার দিন দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের নুরুল্লাপুরে ফকির হযরত সালাল শাহ দরবার শরীফে ধামাইলের আয়োজন করা হয়। ধামাইলের দুই আগে থেকে সপ্তাহব্যাপী গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার ধালাইল উৎসবের বিকেলে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ধামাইল অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে দরবার শরীফের অদূরে চলছে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন ও বিক্রি। আশপাশের এলাকা থেকে গাজাসেবীরা মেলায় এসে সাধুদের সাথে চক্রাকারে বসে গাঁজা সেবন করছে। তার পাশেই বসানো হয়েছে অন্তত ১০টি জুয়ার আসর। ২০ টাকা মূল্যের লটারির কুপনের বিক্রি হচ্ছে। এসব টিকিট কিনে প্রতারিত হচ্ছে মেলায় আসা দর্শনার্থীরা। স্বাধীন বাংলা সার্কাসের নামে চলছে যুবতী মেয়েদের অশ্লীল নৃত্য আর অঙ্গভঙ্গি। ৩শ’ টাকা থেকে ৫শ’ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি টিকিট। আর এসব টিকেট কিনে উঠতি বয়সের ছেলেরা বিপথগামী হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এলাকার সাধারণ মানুষজন। রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে নাচের সাথে সাথে নগ্নতা বেড়ে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, এসবের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কয়েকজন নেতা। স্টলের জাগয়ার ভাড়ার নামে প্রতিদিন আদায় করা হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। গত বছর জেনারেটরের ভাগাভাগি নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আদালতে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। তারপরও এদের নেতৃত্বে এ বছর চলছে পুরো আয়োজন। এ বিষয়ে কুসুমহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন আজাদ জানান, মেলায় যদি কেউ ভ্যারাইটি শো’র নামে অন্য কিছুর আয়োজন করে থাকে এ ব্যাপারে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। আমি পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করেছি। ভ্যারাইটি শোর অনুমতির বিষয়ে দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, প্রশাসনের কোনো অনুমতি ছাড়াই যাত্রা ও ভ্যারাইটি শোর নামে অশ্লীল নৃত্য চলছে বলে আমি শুনেছি। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সবাইকে অবগত করা হয়েছে। তারপরও যদি এসব বন্ধ না হয় তাহলে আমাদের দুর্ভাগ্য ছাড়া আর কিছুই না।

