উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের জয়যাত্রা অব্যাহত

0
1068

স্টাফ রিপোর্টারঃ
নতুন বছরে বাংলাদেশের চেহারাটা কেমন হবে? কেমন যাবে আগামী বছরটি? প্রায় সবার মনেই এই প্রশ্ন। ২০১৮ নির্বাচনের বছর। সে কারণে আরও একটি বাড়তি প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হবে তো আওয়ামী লীগ? কারও মনে যে কোনো শঙ্কা নেই, উদ্বেগ নেই, তা-ও নয়। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার উসকানিতে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘিœত হয় কি না অথবা অতীতের মতো কোনো রক্তাক্ত অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি ঘটে কি নাÑ এ নিয়েও মানুষের মনে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক।
কিন্তু আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, সকল আশঙ্কা, সন্দেহ-সংশয় এবং প্রশ্নের প্রকৃত মীমাংসা বাংলাদেশের জনগণই করে দেবে। ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ নিরঙ্কুশভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং তার নেতৃত্বাধীন জোটকে নির্বাচিত করেছে। এই জোট শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে গত ৯ বছর খাদের কিনার থেকে দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে এসেছে। বিএনপি-জামাত জোট এবং গণজাগরণ মঞ্চকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলাম দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও শান্তির সড়ক থেকে বাংলাদেশকে রক্তগঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। মাঝে বেশ কিছু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ২০১৭ সালটি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আকস্মিক ¯্রােত ছাড়া, দেশে মোটামুটি স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অক্ষুণœ ছিল।

Advertisement

আমাদের প্রত্যাশা, ২০১৮-তে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের বিজয় পতাকা উড্ডীন রেখেই উন্নতির নতুন সোপানে উন্নীত হবে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের বর্বর সামরিক জান্তা সে দেশের বাংলাভাষী অধিবাসী রোহিঙ্গাদের জোর করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠিয়েছে। লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গার ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তারা জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে। গ্রামের পর গ্রাম আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। হাজার হাজার নারীর সম্ভ্রমহানি ঘটেছে। প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় নিয়েছে। বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ মানবিকতা ও ঔদার্য প্রদর্শন করে ভাগ্যাহত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের মাটিতে কেবল আশ্রয়ই দেন নি, তিনি ঘোষণা করেছেন, আমরা একবেলা খেয়ে হলেও এই দুর্ভাগা মানুষগুলোর মুখে অন্ন জোগাব। তিনি যা বলেছেন, তা করেই প্রমাণ করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ জন্য তাকে মাদার অব হিউম্যানিটি অভিধায় আখ্যায়িত করেছে। বাঙালির মাথা আকাশ স্পর্শ করেছে।
শেখ হাসিনার আরেকটি ব্যক্তিগত সাফল্য আমাদের জাতিকে দুর্নীতির কলঙ্কমুক্তির পথ দেখাতে পেরেছে। পৃথিবীর ১৭০ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের মধ্যে শেখ হাসিনা সততার বিচারে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। এটা আমাদের দেশের জন্য কেবল গৌরবের বিষয় নয়। শিক্ষারও বিষয়। ক্ষমতার শীর্ষে থেকে শেখ হাসিনা যদি নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারেন, তাহলে অন্যসব আমলা, কর্মচারী, এমপি, মন্ত্রী, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, শিক্ষক-পেশাজীবী এবং রাজনীতিবিদগণ কেন নিজেদের দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারবেন না? যারা শেখ হাসিনার কাছ থেকে দুর্নীতিমুক্ত থাকার শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবেন না, তাদের অন্তত নৈতিকভাবে আওয়ামী লীগ করার অধিকার নেই। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ অভিন্ন। আমি স্তাবক নই, তাই অতিশয়োক্তি করিনি। সত্যি সত্যি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাদ দিলে অথবা বাংলাদেশকে বাদ দিলে শেখ হাসিনার আলাদা অস্তিত্বের গুরুত্ব আছে কি? তা হলে শেখ হাসিনা যে নজির স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন, তার অনুসারীরা তা পারবে না কেন?
২০১৭ সালে জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য দলিলের মর্যাদা পেয়েছে। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম তাদের কাছে এর চেয়ে বড় কোনো পাওনা নেই। কেননা আমাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের দিক্-নির্দেশনা ও স্বাধীনতার ঘোষণা তো ছিল এই ভাষণটিই। সমগ্র জাতি আজ বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত। ৭ মার্চের ভাষণ এখন সমগ্র বিশ্ববাসীর।
বড় ম্যাগা-প্রজেক্টগুলো এগিয়ে চলছে। পদ্মাসেতু এখন দৃশ্যমান। বাংলাদেশ পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল কাজের উদ্বোধন হয়েছে। মেট্রোরেলের কাজ এগিয়ে চলছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জিত হবেই। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় দেশ আরেক কদম এগিয়ে গেছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং প্রতœতত্ত্ব, ইতিহাস ও ঐতিহ্যসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। নতুন নতুন প্রতœক্ষেত্র আবিষ্কারের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে যুক্ত হচ্ছে নতুন অধ্যায়। আমাদের ইলিশ মাছ বা সিলেটের শীতল পাটি, আমাদের জামদানিÑ আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। সামান্য মনে হতে পারে। কিন্তু বিশ্ব স্বীকৃতির ভেতর দিয়ে বাঙালি সংস্কৃতি আন্তর্জাতিকভাবে আরও ঋদ্ধ হলো।
২০১৮-তে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। উন্নয়নের পথ থেকে আমাদের কোনো অপশক্তিই বিচ্যুত করতে পারবে না। ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচন নিঃসন্দেহে আমাদের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা বিশ্বাস করি, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই চ্যালেঞ্জও সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। সংবিধানের ভিত্তিতে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করে বাংলাদেশ প্রমাণ করবেÑ গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ পিছিয়ে নেই।
২০১৮ সালে আমরা প্রিয় দেশবাসীর প্রতি উষ্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমরা দেশবাসীর কল্যাণ ও সুখী সুন্দর শান্তিপূর্ণ সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের কামনা করছি। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে অব্যাহত অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবেÑ এটাই দেশবাসীর সাথে আমাদের প্রত্যাশা। আমাদের দৃঢ় প্রত্যয় বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী আদর্শে বাংলাদেশে একটি শোষণ-বঞ্চনামুক্ত ভেদ-বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ গড়ে তোমার পথে এগিয়ে যাবে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here