ঈদকে সামনে রেখে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ফুটপাত চাঁদাবাজরা

0

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
SELECT meta_id FROM wp_postmeta WHERE meta_key = 'post_views_count' AND post_id = 21616

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
INSERT INTO `wp_postmeta` (`post_id`, `meta_key`, `meta_value`) VALUES (21616, 'post_views_count', '0')

0

ঈদের বাজার সামনে রেখে রাজধানীতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ফুটপাত চাঁদাবাজরা। প্রতিটি এলাকায় দৈনিক চাঁদার হার দ্বিগুণ করা হয়েছে। নতুন নতুন দোকানও বসাচ্ছে তারা। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে দুই সিটি করপোরেশন বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা এখন পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে চার শতাধিক ব্যক্তি চাঁদা তুলছে। এদের নিয়ন্ত্রণ করছে রাজনৈতিক দলের নেতা, সন্ত্রাসীসহ অর্ধশত ব্যক্তি।

Advertisement

প্রতিটি এলাকায়ই পুলিশের নামেও তোলা হচ্ছে চাঁদা। ফুটপাতে আগে থেকে ব্যবসা করে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাঁদার পরিমাণ বাড়ছে এখন। কয়েকটি এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছে সন্ত্রাসীদের নামে চাঁদা চাওয়া হচ্ছে। মাঝেমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে চাঁদাবাজদের কেউ কেউ ধরা পড়লেও আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে এসে ফের জড়িয়ে পড়ছে চাঁদাবাজিতে। ফলে যথাযথ আইন ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ফুটপাত দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, ‘রাজধানীতে এক লাখ ১০ হাজারের মতো হকার আছে। ১০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত দিনে চাঁদা দিতে হয়। কয়েক দিন পরে দ্বিগুণ হয়ে যাবে। ২০ রমজানের পর থেকে চানরাত পর্যন্ত চলবে অরাজকতা। মৌসুমি হকারও বসানো হচ্ছে মনমতো। এভাবে হকারদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেবে অন্তত আড়াই শ কোটি টাকা। চাঁদাবাজ দমন করে যদি সরকার নিত, তবে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হতো।’ তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশ কয়েক দফায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। জামিনে বেরিয়ে এসে তারা ফের চাঁদাবাজি শুরু করেছে। দুই সিটি করপোরেশন যদি প্রকৃত হকারদের কাছে ফুটপাত ইজারা দিত, তাহলে এমন অবস্থা হতো না।’ জানা গেছে, শুধু ফুটপাতের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে এমন গডফাদার গুলিস্তানে চার, মতিঝিলে তিন, সদরঘাটে তিন, নিউ মার্কেটে তিন, ফার্মগেটে তিন, মিরপুর ১ নম্বরে দুই, ১০ নম্বরে দুই, উত্তরায় দুই, বাড্ডায় দুই, কুড়িলে দুজন রয়েছে। অন্যরা রয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। ফুটপাত থেকে চাঁদা তুলছে ৪০০ ব্যক্তি, যাদের বলা হয় লাইনম্যান। ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেটের এক ব্যবসায়ী পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মিরপুর রোডের ধানমণ্ডি ও নিউ মার্কেট অংশে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কিছু ক্যাডার চাঁদা তোলে। সারা বছর এদের উৎপাত তো আছেই, ঈদ উপলক্ষে এরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এদের বিরুদ্ধে কথা বলে লাভ নেই।’ গুলিস্তান হকার্স, গাউছিয়া, নিউ মার্কেট, নীলক্ষেত, খিলগাঁও তালতলা, মিরপুর শাহ আলী, ১ নম্বর, গুলশান-১ ও ২, মিরপুরের মুক্তিযোদ্ধা সুপার, মুক্তবাংলা, উত্তরা ও পুরান ঢাকার ফুটপাত ব্যবসায়ীরাও একই রকম তথ্য দেন। কয়েকটি এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামেও চাঁদা তোলা হচ্ছে। খিলগাঁওয়ের জিসান, মিরপুরের শাহাদাত ও লিটু, কারওয়ান বাজারের আশিক, কল্যাণপুরের বিকাশ-প্রকাশ, বাড্ডার মেহেদী, মগবাজারের রনি, আদাবরের নবী, মোহাম্মদপুরের কালা মনির, শাহ আলীর গাজী সুমন, পল্লবীর মোক্তার, কাফরুলের শাহীন সিকদার, যাত্রাবাড়ীতে ইটালি নাসির, জুরাইনের কচির নাম ব্যবহার করছে চাঁদাবাজ চক্র। বাড্ডা এলাকায় ডালিম, রবিন, ভাগ্নে ফারুক, আরিফ, মান্নান, রমজান, দুলাল, মানিক, সিপলু, রায়হান, রুবেল, রিয়াদ; রামপুরায় কালা পলাশ ও মুরাদ; গুলশান-বনানীতে টিপু, মহাখালীতে অপু, মিলন ও জামাই মুকুল; সাততলা বস্তিতে মনির ও লম্বু সেলিম; খিলগাঁওয়ে খালেদ ও মানিক; যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদে জাহাঙ্গীর ও সায়েম আলী; হাজারীবাগে বুলু, লিংকন, তপু, জনি, রফিক, বিল্লু ও মুন্না; কলাবাগানে নাজিম বাবু ও ইমন; মোহাম্মদপুরে গালকাটা মোশারফ, লম্বা মোশারফ, চিকা জসিম, আহম্মদ, সাজ্জাদ, মোহন, পাভেল, লোটন, চায়নিজ তানভীর, রবিন, আদিত, মীম, খলিল ও হাজী আক্কাস এবং শাহ আলীতে বল্টু রাসেল, মিরপুর ১০ ও ১১ নম্বরে কালাচান ও কিলার বুলবুল চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে। ফুটপাত-সড়কে অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজি করার অভিযোগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মতিঝিল, পল্টন ও শাহবাগ থানায় ৭২ চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সহকারী সম্পত্তি কর্মকর্তা মুহাম্মদ সামছুল আলম। মতিঝিল থানার মামলায় গত বছরের ১০ জুলাই দুজনকে অব্যাহতি দিয়ে ১৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে পুলিশ। চার আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলেও তারা সবাই জামিনে। ওই মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম মোল্লা এখন বহাল তবিয়তে। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের পাশের মার্কেটে চাঁদা আদায় করছে তার সহযোগী শিবলু ও শাহজাহান মৃধা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বায়তুল মোকাররম জিপিও লিংক রোডে হলিডে মার্কেটে খোকন মজুমদার, আবুল হাসেম, মজিবর, পোটল, নসু, হারুন অর রশীদ ও তার সহযোগীরা; উত্তরগেট এলাকায় দুম্বা রহিম, সাজু চাঁদা তুলছে। শাপলা চত্বরে আরিফ চৌধুরী; পল্টনে দুলাল মিয়া ও তার সহযোগী; গুলিস্তান আহাদ পুলিশ বক্স ও রাস্তায় আমিন মিয়া, সাহিদ ও লম্বা হারুন; জুতাপট্টিতে সালেক; গোলাপশাহ মাজারের পূর্ব-দক্ষিণ অংশে ঘাউড়া বাবুল ও শাহীন টাকা তুলছে। ওসমানী উদ্যানের পূর্ব ও উত্তর অংশে লম্বা শাজাহান; গুলিস্তান খদ্দর মার্কেটের পশ্চিমে কাদের ও উত্তরে হান্নান, পূর্বে সালাম, আক্তার ও জাহাঙ্গীর; গুলিস্তান হল মার্কেটের সামনের রাস্তায় লাইনম্যান সর্দার বাবুল; সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের উত্তর পাশের রাস্তায় জজ মিয়া, পূর্ব পাশের রাস্তায় সেলিম মিয়া; মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে মো. আলী, আবদুল গফুর ও বাবুল ভুঁইয়া; শাহবাগে ফজর আলী, আকাশ, কালাম ও নুর ইসলাম; যাত্রাবাড়ীতে সোনামিয়া, তোরাব আলী, মান্নান টাকা তোলায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। জুরাইন-পোস্তগোলায় খায়রুল, সিরাজ তালুকদার ও গরু হানিফ; লালবাগে আবদুস সামাদ, চানমিয়া ও ফিরোজ; মিরপুরে-১-এ ছোট জুয়েল, আলী, বাদশা ও মিজান; মিরপর-১১-এ আবদুল ওয়াদুদ, শফিক ও হানিফ; গুলশানে হাকিম আলী; কুড়িলে আবদুর রহীম ও নুরুল আমিন; এয়ারপোর্টে আকতার, মনির, ইব্রাহিম, জামাল ও বাবুল; উত্তরায় টিপু, নাসির ও হামিদ। গুলিস্তানের লাইনম্যান জজমিয়া দাবি করেন, ‘এক হাজার টাকা তুললে আমাকে দেওয়া হয় ২০০ টাকা। পুলিশ নেয় ৫০০, নেতারা পান ৩০০ টাকা। প্রতি রাতে থানার ক্যাশিয়ার এসে ভাগের টাকা নিয়ে যায়। আর থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়।’ তবে কোনো নেতার নাম জানাতে রাজি হননি তিনি। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) মাসুদুর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের অব্যাহত অভিযানের কারণে ফুটপাতের চাঁদাবাজরা এখন অনেকটাই কোণঠাসা। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে। রমজান ও ঈদ সামনে রেখে যেন চাঁদাবাজি না হয়, সে লক্ষ্যে আমরা নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছি। টহল পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। ডিএসসিসির সহকারী সম্পত্তি কর্মকর্তা মুহাম্মদ সামছুল আলম বলেন, হকার পুনর্বাসন ও তাদের সমস্যার সমাধানে এরই মধ্যে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডিএসসিসির পক্ষ থেকে ফুটপাতে হকারদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছিল। ফুটপাত-রাস্তায় পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here