মোঃ আবদুল আলীমঃ
অগ্রণী ব্যাংক লি: রংপুর সার্কেলের অন্তর্গত নীলফামারী শাখার মাধ্যমে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে শাওন অটো ব্রিকস লি: এর এমডি মোঃ মনছুরুল ইসলাম (দানু) এবং অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় ১২.১৭ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে মর্মে অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংকটির রংপুর সার্কেলের প্রধান কার্যালয়ের মঞ্জুরি পত্র নং ১/শাওন অটো/৭৬৩/২০১৫ তাং ০২/১১/২০১৫ এর মাধ্যমে চীন থেকে যন্ত্রপাতি আমদানির নামে মার্কিন ডলার ১৫,৫২,৬১১ (বা: টা: ১২.১৭ কোটি) লোপাট হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে। গত ৩১-১২-২০১৭ ইং তারিখ পর্যন্ত অনারোপিত সুদসহ ব্যাংকের পাওনা ১৯.৪৭ কোটি টাকা যা মন্দজনক হিসেবে শ্রেণীকৃত ও আদায়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
আর্থিক খাতে এতবড় অনিয়মের মূল হোতা নিলফামারী জেলার ডোমার উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম (দানু), জিএম (প্রশাসন) মোঃ মশিউর আলী (বর্তমানে ডিএমডি হিসেবে পিআরএলরত), উক্ত শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মোঃ শফিকুল ইসলাম, রথিন্দ্রনাথ সরকার, রংপুর প্রধান শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মোঃ মকবুল হোসেন, রংপুর সাবেক অঞ্চল প্রধান অর্জিত কুমার দাস ও মোঃ শহিদুল ইসলাম, রংপুর সার্কেলের জি এম মোঃ কামরুজ্জামান, কল্পনা সাহা, জি এম আইসিসি মোঃ মনোয়ার হোসেন এফসিএ ও আরও অনেকে। গত ২২-০১-২০১৮ ইং তারিখে অগ্রণী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের রিকাভারী এন্ড এনপিএ ম্যানজেম্যান্ট ডিভিশনের সহকারী মহা ব্যবস্থাপক মোঃ আল অজিম আকন ও উপ মহাব্যবস্থাপক জহিরউদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদন উক্ত ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক বরাবর দাখিল করা হয়। প্রতিবেদন যা দেখা যায় তা নিন্মরুপ:
১। পূর্ত কাজে মোট আটটি কিস্তি বিতরন করা হয়। ০১-১০-২০১৪ ইং তারিখ হতে ১২-০১-২০১৫ ইং তারিখ পর্যন্ত ৪ মাসে ২ টি কিস্তিতে মোট ১৫৫ লক্ষ টাকা বিতরন করা হয়। কিস্তি দুটি বিতরন করার সময় নীলফামারী শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন মোঃ শফিকুল ইসলাম (বর্তমানে এজিএম রংপুর শাখা)। তার সময়ে মঞ্জুরি পত্রের শর্ত মোতাবেক যৌথ পরিদর্শন স্বাপেক্ষে কিস্তির টাকা বিতরন করা হয় নাই।
২। এর পর শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব নেন রথিন্দ্রনাথ সরকার এসপিও। তিনি ১৬-০৭-২০১৫ ইং হতে ১৫-০৩-২০‘১৬ ইং তারিখ পর্যন্ত ৯ টি কিস্তিতে মোট ১৩৫ লক্ষ টাকা বিতরন করেন। তিনি কর্মকালীন থাকা অবস্থায় এলসি খোলা ও ডকুমেন্ট হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পাদিত হয়। অথচ এক্ষেত্রে মঞ্জুরি পত্রের শর্ত পরিপালন করা হয়নি এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে অবহিতকরন বা অনুমোদন নেয়া হয়নি।
৩। প্রকল্প স্থান পরিদর্শনকালে শাওন অটো ব্রিকস লি: এর নিজস্ব শেডের ভেতরে ও বাইরে বিক্ষিপ্তভাবে মেশিনারিজ ও কিছু নির্মান সামগ্রী পাওয়া যায় যা ১ম চালানের আমদানীকৃত মেশিনারিজ কিনা তা উপযুক্ত ডকুমেন্টের অভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় নি। ২য় ও ৩য় চালানের মালামাল দীর্ঘ দিন যাবৎ বন্দরে রয়েছে বলে পরিদর্শন কালে জানা যায়। উক্ত মালামাল দীর্ঘ দিন ছাড় না করার কারনে ডেমারেজ চার্জ বাবদ ১১.৭৭ কোটি টাকা প্রদান করতে হবে।
৪। প্রধান কার্যালয়ের আইসিসি বিভাগ কর্তৃক ০৯-০৩-২০১৭ ইং তারিখে শাখা নিরীক্ষা করা হলে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায় বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় উল্লেখ পূর্বক বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের অভিজ্ঞ কর্মকর্তার মাধ্যমে নিরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হলেও দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হওয়া সত্বেও নিরীক্ষা দলের পরামর্শ কার্যকর করা হয়নি।
পরিদর্শন প্রতিবেদনে আরও বলা হয় এলসি খোলাকালীন সময়ে মোঃ মকবুল হোসেন (বর্তমানে এজিএম ঠাকুরগাও) শাখার দায়িত্ব পালন করেন। এলসি খোলার পূর্বে প্রকল্পের পূর্তকাজ সম্পাদনের বিষযটি অবহিত না হয়ে এলসি খোলায় অনিয়ম হয়েছে। প্রকল্পের পূর্তকাজ নির্মানে গ্রাহকের ইকুইটি যথাযথভাবে বিনিয়োগ না করে অসমাপ্ত অবস্থায় এলসি খুলে মেশিনারিজ আমদানীর মাধ্যমে ব্যাংককে ঝুঁকিতে ফেলা হয়েছে এবং গ্রাহক মালামাল বন্দর হতে ছাড় করনে অনাগ্রহ প্রকাশ করাতে ১১.৭৭ কোটি টাকার ওপর ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে। পরিদর্শন প্রতিবেদেন সার্কেল অফিস ও আঞ্চলিক অফিসের কার্যক্রম সম্পর্কে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা নিন্মরুপ:
১। মঞ্জুরি পত্রে শর্ত আছে যে, সার্কেল অফিস ও আঞ্চলিক অফিস উক্ত প্রকল্পের অগ্রগতি সঠিকভাবে মনিটরিং ও সুপারভিশন করবেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রম ও সুপারভিশন যথাযথ হয়নি মর্মে প্রতীয়মান হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নকালীন সময়ে সার্কেল অফিস ও আঞ্চলিক কার্যালয়ের দায়িত্বে ছিলেন নিন্মোক্ত কর্মকর্তাগণ:
সার্কেল অফিস: ১। মোঃ কামরুজ্জামান, জিএম (অব), মেয়াদকাল ০৬/০৪/২০১৪ থেকে ২৬/০৪/২০১৪ ও ২৯/০৩/২০১৬ ইং থেকে ১৮/০৯/২০১৬ পর্যন্ত। ২। কল্পনা সাহা, জিএম (অব) মেয়াদকাল ২১/১০/২০১৪ ইং হতে ০৫/৭/২০১৫ ইং পর্যন্ত। ৩। মোঃ মশিউর আলী জিএম (ডিএমডি হিসেবে পিআরএলরত) মেয়াদকাল ১২/০৮/২০১৫ ইং হতে ২৮/০৩/২ ০১৬ পর্যন্ত।
অঞ্চলিক অফিস: ১। অরজিৎ কুমরা দাস, ডিজিএম (অব) মেয়াদকাল ২৬/০৪/২০১২ থেকে ১৩/০৪/২০১৫ ইং পর্যন্ত।
২। মোঃ শহিদুল ইসলাম এজিএম (বর্তমানে ডিজিএম ঠাকুরগাও), মেয়াদকাল ১৩/০৩/২০১৫ ইং হতে ১৬/০৬/২০১৬ পর্যন্ত।
পরিদর্শন প্রতিবেদনের মতামত বিভাগে উল্লেখ করা হয় অনিয়মিতভাবে ঋন বিতরনের জন্য প্রাথমিকভাবে উক্ত শাখার ব্যবস্থাপক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর দায়িত্ব বর্তায়। প্রধান কার্যালয়ের আইসিডি-১ বিভাগের পত্র নং আইসিডি-১-শাওন অটো/৭৬৩/২০১৫ তারিখ ০২/১১/২০১৫ এর মাধ্যমে এলসি খোলার জন্য শাখাকে অনুমোদন প্রদান করা হয়। পূর্ত ও অন্যান্য কাজ সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নির্ধারিত মার্জিন সাপেক্ষে এলসি খোলার বিষয়টি বিবেচনা করা হলে ব্যাংক অর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো না। আরও উল্লেখ করা হয় এলসি স্থাপনের পূর্বে আমদানীতব্য মেশিনারীজ এর বিপরীতে গ্রাহকের ইকুইিট বাবদ ২.১৭ কোটি টাকা জমা না দিয়ে এলসি স্থাপন করার ফলে আমদানীকৃত মালামাল বন্দর হতে খালাস না করার কারনে প্রায় ১১.৭৭ কোটি টাকার ওপর ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। মোঃ মনোয়ার হেসেন, এফসিএ মহাব্যবস্থাপক ও হেড অব আইসিসি এর স্মারক নং আইসিসি/এআইডি-১/তদন্ত/৬৬৩/১৭ তারিখ ৩১/১২/২০১৭ ইং এর মাধ্যমে মহাব্যস্থাপক রিকভারী এন্ড এনপিএ ম্যানজেম্যান্ট ডিভিশন (ঋন শ্রেণীকরন) অগ্রণী ব্যাংক প্রধান কায়ালয়, ঢাকা বরাবর ঋন সংক্রান্ত গুরুতর অনিয়মের উদঘাটনসহ দায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের চিহ্নিত করে আইসিসি কর্তৃক এক তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরন করা হয়। উক্ত তদন্ত প্রতিবেদনসহ মেসার্স শাওন ব্রিকস এর ঋন ও অগ্রণী ব্যাংক এর যেসব কর্মকর্তাগণ উক্ত ঋনের নামে অর্থ লোপাটে জড়িত তার সকল কাগজপত্র, ডকুম্যান্ট ও স্টেটম্যান্ট এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে। ব্যাংক গ্রাহক যোগসাজসে এতবড় অনিয়মের ব্যাপারে অগ্রণী ব্যাংকের রংপুর সার্কেলের তদানিন্তন মহাব্যবস্থাপক (বর্তমানে জিএম আইন) সুকান্তি বিকাশ সারনালেরও দায় রয়েছে মর্মে জানা গেছে। অথচ তাকে ডিজিএম হতে জিএম পদে পদোন্নতি দিয়ে রংপুর সার্কেলে পদায়ন করা হয়। তিনি উক্ত সার্কেলে ৬/১২/১৬ হতে ২৩/১/১৮ পর্যন্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে তিনি চট্টগ্রাম বন্দর হতে মালামাল খালাসের কোন উদ্দোগ গ্রহণ করেননি এবং ঋন গ্রহিতার খেলাপি ঋন আদায়ে কোন ব্যবস্থা নেননি। সুকান্তি বিকাশ সারনাল বিষয়টি দীর্ঘ দিন ধামাচাপা দিয়ে রেখেছেন এবং তিনি দুর্নীতিবাজ ব্যাংক কর্মকর্তা এবং ঋন গ্রহীতার বিরুদ্ধে ঋন আদায়ের কার্যক্রম গ্রহণ না করে উল্টো শাওন ব্রিকস নামে ভুয়া প্রকল্পের অনুকুলে নতুন করে ৭ কোটি টাকা ঋন প্রস্তাব পাঠান বলে ব্যাংকটির অনেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন। কিন্তু ব্যাংকের ক্রেডিট কমিটির হস্তক্ষেপে উক্ত ঋন প্রস্তাব বিবেচনায় না হওয়ায় ব্যাংকের উক্ত টাকা আত্মসাতের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ ব্যাপাবে তার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি প্রতিবারই মিটং ও ব্যস্ততার কথা বলে এড়িয়ে যান। তিনি এমনভাবে কথা বলেন যেন তিনিই চেয়ারম্যান। অর্থাৎ চেয়ারম্যান যেন তার কথা ছাড়া নড়াচড়া করেন না। কাজে কর্মে চেয়ারম্যানের সাথে তার একটি অপকর্মের সম্পর্ক আছে বলে অনেকে মনে করেন। বর্তমান জিএম রিকভারী বিভাগ নুরুল ইসলাম দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে প্রকাশ। তবে তিনিও এ ব্যাপারে অযথা বিলম্ব করছেন বলে ব্যংক সূত্রে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যাংকটির কিছু কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক এবং হেড অব আইসিসি মোঃ মনোয়ার হোসেন ৩ বছরের জন্য চুক্তিতে নিয়োগ পান। তিনি ব্যাংকের নিরীক্ষা ও পরিদর্শনের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। তিনি অভিজ্ঞ নিরীক্ষক দিয়ে উক্ত শাখা পরিদর্শন না করিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেন। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় ও ব্যাংক ঋন আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ার জন্য ব্যাংকের কোন স্তরের কর্মকর্তাদের দায়ি না করে শুধুমাত্র গ্রহিতার গাফিলতির জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি এবং ব্যাংকের ঋন আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ার রিপোর্ট দাখিল করে প্রকৃত তথ্য গোপন করেছেন। এই ব্যাপারে হেড অব আইসিসি মোঃ মনোয়ার হোসেন এর বক্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে যেগাযোগ করলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, “জানেন আমি কে? কেন ফোন করেছেন ?? আমি আননোওন ফোন ধরি না, তবে আপনার ফোন ধররাম”। তিনি শাওন ব্রিকস এর ব্যাপার কিছু জানতে হলে নীলফামারী শাখার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। মোঃ মশিউর আলী (ডিএমডি) এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। অপরাধ বিচিত্রার পক্ষ থেকে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড: জায়েদ বখত এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বোর্ড সভাকে এর জন্য দায়ী করেন। ব্যাংক সূত্রে জানা যায় চেয়ারম্যান প্রভাব খাটিয়ে শাওন অটো ব্রিকস এর অনুকুলে ঋন পাস করিয়েছেন। এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে চেয়ারম্যান উক্ত ঋনের ব্যাপারে ইন্টারেস্টেট থাকার কারনে বোর্ডের অন্য কেউ উক্ত ঋনের ব্যাপারে কোন প্রতিবাদ করতে পারেননি। কারন প্রতিবাদ করতে গেলে তার রোষানলে পরার সম্ভাবনা রয়েছে। এভাবে দয়িত্বকালে থাকা সকল কর্মকর্তা তাদের দায় দায়িত্ব অস্বীকার করেন।
গ্রহক মোঃ মনছুরুল ইসলাম (দানু) এর সাথে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ কররে তিনি বলেন সবই মিথ্যা ও ভুয়া। এ প্রতিবেদকের কাছে সকল প্রমাণ রয়েছে বললে তিনি একেবারে চুপ হয়ে যান ও আর কোন কথা বলেননি। বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস। মোঃ মনছুরুল ইসলাম দানুর মত একজন ঋন খেলাপি কিভাবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বহাল তবিয়তে থাকে তা নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারে। এ ব্যপারে এ প্রতিবেদকের তদন্ত অব্যহত আছে। আগামী সংখ্যায় চোখ রাখুন। (চলবে)

