দেশের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যাচ্ছে লাশ।

0

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
SELECT meta_id FROM wp_postmeta WHERE meta_key = 'post_views_count' AND post_id = 29093

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
INSERT INTO `wp_postmeta` (`post_id`, `meta_key`, `meta_value`) VALUES (29093, 'post_views_count', '0')

0

দেশের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যাচ্ছে লাশ। রাস্তার পাশ থেকে, ঝোপঝাড় ও ডোবা-নালায় পাওয়া যাচ্ছে লাশগুলো। অধিকাংশ নিহতের পরিবারের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তুলে নেয়ার পর এই লাশগুলো মিলছে।

Advertisement

তবে প্রায় প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে নিহতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তারা ডাকাতি বা দস্যুতার সঙ্গে জড়িত। ডাকাতির মালামালের ভাগাভাগি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এসব খুনের ঘটনা ঘটেছে। শুধু নারায়ণগঞ্জ জেলায়ই এক সপ্তাহে লাশ মিলেছে ৭টি। গত ২৫ অক্টোবর সকালে জালকুড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে লাশের অংশবিশেষ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশের টুকরোগুলো দেখে বোঝার উপায় নেই কিভাবে হতভাগ্যের মৃত্যু হয়েছে। ২১ অক্টোবর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আড়াইহাজারে পাঁচরুখী ঘিদিরপাড়া এলাকা থেকে ৪ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তারা হলো, লুৎফর রহমান মোল্লা, ফারুক, জহিরুল ইসলাম ও সবুজ সরদার। তাদের মধ্যে তিনজনের মাথায় গুলির চিহ্ন ছিল। একজনকে মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এরমধ্যে লুৎফর রহমান মোল্লার বাড়ি ফরিদপুরে। আর বাকিরা পাবনার আতাইকুলা এলাকার বাসিন্দা। ডিবি পরিচয়ে তাদের তুলে নেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে। রূপগঞ্জের ভুলতা ফাঁড়িতে ফারুকের স্ত্রী তাসলিমা লাশ পাওয়ার আগের দিন রাতে স্বামীকে খাবারও দিয়ে এসেছিলেন বলে অভিযোগ করেন। তাসলিমা বেগম জানিয়েছেন, ১৯ অক্টোবর তার স্বামীকে তুলে নেয়া হয়েছিল। ওই চারজনের লাশ পাওয়ার আগের দিন ২০ অক্টোবর ঢাকা বাইপাস সড়কের টেংরারটেক এলাকায় লাশ পাওয়া যায় আবুল হোসেন নামের অপর এক যুবকের। আবুল হোসেন এবং তার ভাই কালামকে একই দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ধরে নেয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। আবুলের বাড়ি সোনারগাঁওয়ের পঞ্চবটি এলাকায়। তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পুরিন্দাবাজারে থাকতেন। আবুলের লাশ পাওয়া গেলেও তার ভাইয়ের এখনো কোনো হদিস নেই। ২০ অক্টোবর রাতে রাজধানীর তুরাগ থানার উত্তরার ১৬ নম্বর সেক্টরে একটি ঝোপের ভেতর থেকে দুই যুবকের লাশ উদ্ধার হয়। স্থানীয়রা দুর্গন্ধ পেয়ে ঝোপের ভেতরে লাশ দু’টি দেখতে পান। প্রথমে লাশ দু’টি অজ্ঞাত ছিল। পরদিন জানা যায় তাদের নাম কামাল ও ইমন। তাদের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে। পুলিশের দাবি তারা দুর্বৃত্ত। তাদের নামে অনেক অভিযোগ রয়েছে। হয়তো ডাকাতির মালামালের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৫ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের ছিন্নভিন্ন লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশের দাবি সড়ক দুর্ঘটনায় রাতের যেকোনো সময় ওই যুবক মারা গেছে। বিকেলে একই দিন রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শফিকুর রহমান ভূঁইয়া (৪৫), ছাত্রলীগ কর্মী সাকিল ভূঁইয়া ও যুবলীগ কর্মী সাকিল মিয়াকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়া হয়। ১৬ ঘণ্টা পর ঢাকা ও গাজীপুরের দু’টি স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করা হয়। কে বা কারা তাদেরকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল তা জানা যায়নি। সেপ্টেম্বর মাসে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকা থেকে তিন যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলোÑ রাজধানীর মহাখালী এলাকার শহীদুল্লাহর ছেলে মো: সোহাগ (৩২), মুগদা এলাকার মো: আব্দুল মান্নানের ছেলে শিমুল (৩১) ও ওই এলাকার আব্দুল ওয়াহাব মিয়ার ছেলে নুর হোসেন বাবু (৩০)। পরিবারের অভিযোগÑ যাত্রীবাহী বাস থেকে তাদেরকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্য পরিচয়ে কে বা কারা তুলে নিয়ে যায়। পরে তাদের লাশ পাওয়া যায়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির গলিত লাশ উদ্ধার হয়েছে। একই দিন কেরানীগঞ্জের তরিকুল্লাহর ডকইয়ার্ড সংলগ্ন বেড়িবাঁধ থেকে আরেক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই লাশগুলোর কোনো কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। যশোরের দু’টি উপজেলা থেকে ফারুক হোসেন (৫০) ও আজিজুল হক (৪৫) নামের দুই ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার হয়। তাদেরকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে কে বা কারা নিয়ে যায়। পরে যশোরের শার্শা ও কেশবপুর থেকে দুই ভাইয়ের লাশ উদ্ধার হয়। এভাবেই একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে লাশ। নিহতদের পরিবারগুলো দাবি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে তুলে নেয়ার পর মিলছে লাশ। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হচ্ছে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here