দিনে ব্যঙ্গাত্মক প্রদর্শনী রাতে হল খুলে দিতে বিক্ষোভ

0

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
SELECT meta_id FROM wp_postmeta WHERE meta_key = 'post_views_count' AND post_id = 44484

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
INSERT INTO `wp_postmeta` (`post_id`, `meta_key`, `meta_value`) VALUES (44484, 'post_views_count', '0')

0

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম প্রশাসন আন্দোলন থামাতে হল বন্ধ সহ ক্যাম্পাসে সভা- সমাবেশ নিষিদ্ধ করলেও আন্দোলন থামছে না। আজও ক্যাম্পাসে প্রতিবাদি অবস্থান, ব্যাঙ্গাতœত চিত্রকর্ম প্রর্দশন, বিক্ষোভ মিছিল ও উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তথ্য- প্রমাণ শিক্ষামন্ত্রী ও ইউজিসি- এর কাছে পাঠানো হয়েছে। এদিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে শতাধিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বন্ধ রয়েছে আবাসিক হল ও সকল প্রকার খাবার দোকান। শুক্রবার সন্ধ্যায় সকল আবাসিক হল খুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি কলা ও মানবিকী অনুষদ থেকে শুরু হয়ে শহীদ মিনার, অমর একুশ ও টারজান পয়েন্ট হয়ে বঙ্গমাতার বেগম ফজিলাতুন্নেছা হলের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এসময় হলের তালা খুলে দেয়ার দাবিতে অবস্থান নেন নারী শিক্ষার্থীরা। থাকার জায়গা না পেয়েই বৃষ্টিতে ভিজে হলের সামনে অবস্থান করছেন বলে জানান তারা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা বৃষ্টিতে ভিজে হলের সামনেই অবস্থান করছেন। বঙ্গমাতার বেগম ফজিলাতুন্নেছা হলের হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তাপসী প্রাপ্তি জানান, ‘হঠাৎ করে হল বন্ধ করে দেয়ায় আমরা সমস্যায় পড়েছি। দিনের পর দিন তো বাইরে বাইরে বা অন্যের বাসায় থাকা সম্ভব না। আমাদের থাকার কোন জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়েই এখানে এসেছি। হল না খোলা পর্যন্ত আমরা এখানে অবস্থান করব।’

Advertisement

পরিচয় প্রকাশ না করে আরেক ছাত্রী জানান, তারা কয়েক দিন এখানে সেখানে থেকেছেন। কিন্তু এভাবে থাকা সম্ভব না হওয়ায় কয়েকজন মিলে প্রাধ্যক্ষের কাছে হল খোলার দাবি জানাতে এসেছেন।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, তারা আমার কাছে দাবি জানিয়েছে। তবে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তেই হল ‘ভ্যাকেন্ট’ করা হয়েছে। এ অবস্থায় কোনো ভাবেই শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। বিষয়টি প্রক্টরকে অবগত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে এ বিষয়ে প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসানের সাথে কথা বলা সম্ভব হয় নি।

এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা তাদেরকে নিরাপদ স্থানে থাকার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন। রাতের বেলা নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাদের নেয়ার জন্য এসেছেন বলে জানান বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা।

এসময় তিনি উপাচার্যের সমালোচনা করে বলেন, তিনি নিজে নারী। অথচ তার ছাত্রীরা সবচেয়ে বেশী অসহায়। তার কুশপুত্তলিকায় আগুন দিলে অবমাননা হয়; কিন্তু ছাত্রীদের হলে থাকতে না দেয়া অবমাননা হয় না।

এর আগে দিনের কর্মসূচি শেষে আলোচনায় বসেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’- এর অন্যতম সংগঠক ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক শাকিল উজ্জামান বলেন, ‘আগামীকাল শনিবার বেলা চারটায় ব্যঙ্গাত্মক চিত্র অঙ্কিত ব্যানার নিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল হবে। মিছিল শেষে অঙ্কিত ব্যানারটি ঢাকা- আরিচা মহাসড়কের পাশে টাঙ্গানো হবে।’

অন্যদিকে উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগের তথ্য- প্রমাণ রাত আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘বাহকের’ মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী ও ইউজিসি- এর কাছে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দর্শন বিভাগের শিক্ষক ও আন্দোলনের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন। তবে ‘বাহকের’ সংখ্যা বা পরিচয় জানাতে রাজি হননি তিনি।

এর আগে সকাল থেকেই আন্দোলনকারী শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন। সেখানেই পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আন্দোলনকারীরা প্রতিবাদী চিত্রকর্ম একেছেন।

বেলা ১২টার পর থেকেই পটচিত্র অঙ্কন শুরু করা হয়। এসময় উপাচার্য বিরোধী নানা ধরনের স্লোগানে সাজিয়ে তোলেন তাদের চিত্র। চিত্রাঙ্কন শেষে এটি ক্যাম্পাসে প্রদর্শন করেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেছেন, চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদী অবস্থান তুলে ধরছেন। এর মাধ্যমে মাধ্যমে উপাচার্যের দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ছাত্রলীগ দ্বারা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাসহ সকল অনিয়ম ফুটে উঠেছে।

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপাচার্য ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হলেও সেখানে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

এর মধ্যে গতকাল এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কার্যালয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে তোলা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাবির শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন ক্যাম্পাসে। সন্ধ্যায় দুর্নীতিবিরোধী কনসার্ট হয়। কনসার্ট থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারীরা।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here