বনানীতে মাদক সম্রাজ্ঞী তাসলির ইয়াবা মিশন

0

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
SELECT meta_id FROM wp_postmeta WHERE meta_key = 'post_views_count' AND post_id = 24325

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
INSERT INTO `wp_postmeta` (`post_id`, `meta_key`, `meta_value`) VALUES (24325, 'post_views_count', '0')

0

বনানী প্রতিনিধিঃ
ইয়াবা, ফেন্সিডিল, মদ, গাজা, হেরোইন সহ এলকোহল জাতীয় নেশা দ্রব্য আমাদের সমাজ ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দিয়েছে। আর অল্প সময়ে কোটিপতি হওয়ার নেশায় এই মাদকদ্রব্য আমাদের যুব সমাজের হাতে তুলে দিচ্ছে সমাজের কিছু প্রভাবশালী লোকজন। তারা কখনো প্রশাসনিক লোকজনকে মোটায় ম্যানেজ করে আবার কখনো প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে এই মাদক ব্যবসা করে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাচ্ছে।

Advertisement

 

বড় নেতা থেকে শুরু করে পাতিনেতা সারির অনেকেই সরাসরি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত এটা নতুন কিছু। কোন দলীয় সাইনবোর্ড ব্যবহার করে নিচের স্তরের নেতা নেত্রীরা মাদক ব্যবসা করে একটা সময় দলীয় ভাবমূর্তি চরমভাবে নষ্ট করে। তবে শুরু থেকে তাদেরকে দমন করা হলে কেউ কলংকিত বদি হতে পারতো না মনে করে মাদকবিরোধী সচেতন মহল। শুধু নেতা বদি একাই কলংকিত নয়, তার পাশে রয়েছে হাজারো কলংকিত নেতা বা নেত্রী। এদের মধ্যে রাজধানীর বনানী এলাকার কড়াইল বস্তির মাদক সম্রাজ্ঞী তাসলি ওরফে সুন্দরী তাসলি অন্যতম। তাসলি ১৯ নং ওয়ার্ড জাতীয় মহিলা শ্রমিকলীগের সম্পাদিকা। তার স্বামী মোস্তফা শ্রমিকলীগের নেতা। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই মাদক কারবারী। তবে মাদক ব্যবসায় স্ত্রী তাসলির সাথে মোস্তফার তেমন একটা বনিবনা না হওয়া সে নিজেই একটি মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। মোস্তফা ও তাসলির ইয়াবা ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ করে বসে বসে মোটা টাকা কামাই করে মনজিল হক ওরফে মনজুল হক। প্রশাসনের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলাকালে এরা সবাই আত্মগোপনে থাকলেও অভিযান শেষ হওয়ার পরে আবার তারা ইয়াবা ব্যবসায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাসলি নেত্রী হওয়ার সুবাদে কেউ প্রতিবাদ করতে পারেনা। তার নিয়ন্ত্রনে রয়েছে মাদক বিক্রির একটি বিশাল সিন্ডিকেট। প্রশাসন কেন তাদেরকে দমন করতে পারছে না এমন প্রশ্নে সংঙ্কিত স্থানীয় এলাকাবাসী। অপরাধ বিচিত্রার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মাদক সম্রাজ্ঞী তাসলির মাদক ব্যবসার নানা দিক।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কড়াইল বস্তির বেলতলা থেকে স্যাটেলাইট বস্তির বেলতলা ব্রিজে দাড়িয়ে এক যুবক। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন বয়সী মানুষ তার কাছে যাচ্ছে এবং কয়েক সেকেন্ডর মধ্যে ওই যুবক পকেট থেকে বের করে টাকার বিনিময়ে তাঁদের হাতে তুলে দিচ্ছে ইয়াবা ট্যাবলেট। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, যুবকের নাম স্বপন। স্বপন ইয়াবা সম্রাজ্ঞী তাসলির সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য। তাসলির নিয়ন্ত্রনে গাজা ব্যবসায়ী এরশাদনগর বস্তিতে সড়কের পাশে ভ্যানে বসে করছিলেন হাফেজ মিয়া। সে কিছুদিন আগে মাদক মামলায় জেল খেটে জামিনে এসেছে। তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন রুবেল ও রোমান নামে দুই তরুণ। লোকজন তাঁদের কাছ থেকে গাঁজার পুরিয়া কিনে নিয়ে যাচ্ছে। রাস্তায় দাঁড়িয়েই এই দৃশ্য দেখা যায়। কৌতুহল জাগল ক্রেতা সেজে ওদের সঙ্গে কথা বলার। কিন্তু তারা নতুন মুখের কাছে গাঁজা বিক্রি করতে রাজি হন না, তা আগে থেকেই জানা ছিল। এ কারণেই একজন মাকদসেবীর সহায়তায় তাঁদের কাছে গিয়ে ১০০ টাকার গাঁজা কেনা হয়। প্রকাশ্যে গাঁজা বিক্রি করছেন, পুলিশ ধরবে না? এমন প্রশ্ন করা মাত্রই হাফেজ মিয়া বললেন, ‘মাল পাইছেন চলে যান। ওসব জেনে লাভ নেই।’ এরই পরই তিনি উল্টো প্রশ্ন ছুড়লেন “পুলিশ ‘ম্যানেজ’ না থাকলে কারও বাবার ক্ষমতা আছে এই বস্তিতে ইয়াবা গাঁজা বিক্রি করার? কথা না বাড়িয়ে সেখান থেকে চলে আসি। হাফেজের স্ত্রী বীনা ঘরে বসেই ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করে। আর স্বামী হাফেজ পরিচিত কাস্টমার হলে বীনার কাছে ঘরে পাঠিয়ে দেয়। বীনা প্রশাসনের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হয়ে একমাস জেল খেটে একন জামিনে থাকলেও থেমে নেই ইয়াবা ব্যবসা। আর এই দম্পতি সিন্ডিকেটি পরিচালনা করে ইয়াবা সুন্দরী তাসলি ও তার পার্টনার মনজুল হক ওরফে মনজিল ।
এসব মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে ভয়-ভীতির কোন ছাপ নেই। তাহলে কী মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের খবর ওই এলাকায় পৌছায়নি। নাকি তাসলির মতো সবাই পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করেই চালাচ্ছে মাদক ব্যবসা? নাকি তারা এসব অভিযানকে পাত্তাই দিচ্ছে না। অবশ্য কড়াইল এলাকায় অনুসন্ধানে কালে বনানী থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের জড়িত থাকার কথা জানায় এলাকার সাধারণ মানুষ। ইয়াবা, গাঁজাসহ বিক্রেতা ও ক্রেতা ধরার পর ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে ২/১ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।
সুত্র জানায়, তাসলির কাছে প্রশাসনের লোকজনও অসহায়। কারন কোন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে উল্টো তাকেই গ্রেপ্তার হতে হয়। তাসলি এতোটাই ভয়ংকর যে ১৪ সালে বনানী থানা সাহসী এস আই মুকুলকে মিথ্যা নারী নির্যাতনের মামলা দিয়ে বদলী করায়। তাসলির কাজে কেউ বাধা দিলেই সে নিজের শরীরের কাপড় নিজেই টেনে ছিড়ে ফেলে ঐ লোককে মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে দেয়। এ ছাড়া জামাইবাজারের আবদুল খালেকের ছেলে জসিম, জিল্লু, রাসেল ওরফে ফরমা রাসেল, সীমা ও মোশারফ বাজারের শহিদুল ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলের অন্যতম কারবারী।

 

 

 

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here