ডাক্তারদের কি প্রতারণা করার লাইসেন্স দিয়েছে সরকার?

0

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
SELECT meta_id FROM wp_postmeta WHERE meta_key = 'post_views_count' AND post_id = 6224

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
INSERT INTO `wp_postmeta` (`post_id`, `meta_key`, `meta_value`) VALUES (6224, 'post_views_count', '0')

0

ফ্রেন্ডের ১৩ বছর বয়সী বোন ফারজানা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় এনাম মেডিকেল কলেজের ডাক্তার অধ্যাপক ডাঃ আইরিন পারভীনের প্রাইভেট চেম্বারে নিয়ে গেল। ভদ্রমহিলা রোগী দেখার ফি নিলেন ৭০০ টাকা।
অসুস্থতার কারণে স্কুলের রুটিন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারায় অধ্যাপক ডাঃ আইরিন পারভীনের কাছে স্কুলে জমা দেওয়ার জন্য লিখিত তথা অসুস্থতার সামারি লিখে দিতে বলতেই উনি আরো ৭০০ টাকা দাবি করেন। যা ডাক্তারের ভাষায় মেডিকেল সার্টিফিকেট! উনার চাওয়ার ধরন এমন ছিল যে ৭০০ টাকার চাইতে এক টাকা কম হলেও দেওয়া হবেনা। যেহেতু স্কুলের নিয়ম- অসুস্থ হলে ডাক্তারের লিখিত পেপার লাগবে সেহেতু  নিরুপায় হয়ে আরো ৭০০ টাকা দিয়েই বন্ধুটি ডাক্তারের দেওয়া অসুস্থতার সার্টিফিকেট নিয়ে বাসায় ফিরে!
ডাক্তারের দেওয়া সার্টিফিকেটটি আমাকে ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে দেখাতেই রীতিমত অবাক হয়ে গেলাম! যে কাগজে অধ্যাপক ডাঃ আইরিন পারভীন রোগীর জন্য প্রেসক্রিপশন লিখেছেন একই প্যাডের আরেকটা প্রেসক্রিপশন লেখার পেপারে ৫ লাইনে রোগীর নাম, তারিখ, কি সমস্যা, অসুস্থতার তারিখ তা লিখে দিয়েছেন ! প্রেসক্রিপশন লেখার কাগজে যে মেডিকেল সার্টিফিকেট লেখা হয়না ব্যাপারটি বন্ধু জানত না। তাই ভদ্রমহিলা ডাক্তার যা দিয়েছেন যা বলেছেন তাই বিশ্বাস করে নিয়ে বাসায় ফিরেন !
প্রেসক্রিপশন লেখার কাগজে যে মেডিকেল সার্টিফিকেট লেখা হয়না  ব্যাপারটি বন্ধুকে বলার পরও মেনে নিল। সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ বলেই ব্যাপারটি হয়ত বন্ধুটি মেনে নিয়েছে।
কিন্তু বন্ধুটির প্রশ্ন হচ্ছে, একজন স্টুডেন্ট হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় স্কুলের রুটিন কোন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এখন ডাক্তারের কাছে গিয়ে ৭০০ টাকা ফি দেওয়ার পরেও আরো ৭০০ টাকা দিতে হবে কি অসুখ সেটা একটা কাগজে লিখে দেওয়ার জন্য? বন্ধুটির প্রশ্নের সন্তোষজনক কোন উত্তর দিতে পারিনি। কেউ দিতে পারবে বলেও মনে হয়না। বন্ধুটিকে কোন উত্তর দিতে না পারলেও ব্যাপারটি জানার পর দুটি প্রশ্ন মাথায় ঘুরছে। প্রশ্ন দুটি হচ্ছে, ডাক্তারদের কি প্রতারণা করার লাইসেন্স দিয়েছে সরকার? মেডিকেল কলেজগুলোতে কি ডাক্তারির পাশাপাশি রোগীর সাথে কিভাবে প্রতারণা করতে হবে তাও শেখানো হয়? একজন স্টুডেন্ট অসুস্থ হয়ে ৭০০ টাকা ডাক্তারকে ফি দিয়েছে। এরপর আরেকটি পেপারে অসুস্থতার ব্যাপারটি কয়েক লাইনে লিখে দেওয়ার জন্য আরো ৭০০ টাকা নেওয়াটা নির্লজ্জ প্রতারণাই ছাড়া আর কিছুই না। কারণ, পেপারটি মেডিকেল সার্টিফিকেট কিংবা সিক লিভ কোন পর্যায়েই পড়েনা! যে কাগজকে মেডিকেল সার্টিফিকেট বানিয়ে দিয়েছেন সেটি রোগীর অসুস্ততার সামারী মাত্র! এতটুকু লেখার জন্য ফি এর সমান টাকা নেওয়াটা চরম অন্যায়।
ডাক্তারী পেশাকে যে নোবেল প্রপেশনের সম্মান দেওয়া হয় এই বোধটুকু আজকালকার ৯০ ভাগ ডাক্তারের মধ্যে নেই। ডাক্তারদের ল্যাব বাণিজ্য, ঔষুধ বাণিজ্য, ক্লিনিক বাণিজ্যে ইস্যুতে কেউ কিছু বললেই সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুকে ডাক্তার, ইন্টার্নী ডাক্তাররা যে ভাষায় মন্তব্য করেন তা শুনলে মনে হয় গুন্ডা-মাস্তানরা তাদের যোগ্যতা জাহির করছে! এখন ডাক্তারদের ‘ভাব’ আছে। নেই শুধু ভাবমূর্তি ।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here