কেন্দ্রীয় কারাগার ঝুঁকিতে সংস্কারের উদ্যোগ প্রয়োজন

0

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
SELECT meta_id FROM wp_postmeta WHERE meta_key = 'post_views_count' AND post_id = 4029

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
INSERT INTO `wp_postmeta` (`post_id`, `meta_key`, `meta_value`) VALUES (4029, 'post_views_count', '0')

0
কারাগারের নিরাপত্তা যে কোনোভাবেই হোক, যদি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে তবে তা উদ্বেগজনক বিষয়। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, চরম ঝুঁকিতে রয়েছে সদ্য চালু হওয়া কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার। তথ্যমতে, বছর না ঘুরতেই কারাগারটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। খসে পড়ছে আস্তরণ ও চুনকাম। আর যখন চৈত্র মাসের হালকা বাতাসে ভেঙে পড়ছে বিদ্যুতের খুঁটি এবং হালকা বা মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প ও ঝড়ে প্রাণহানিসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা, তখন তা আমলে নেয়া অপরিহার্য। কেননা এটা ভুলে যাওয়া যাবে না যে, এরূপ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দায়িত্বরত কারারক্ষী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাত সহ¯্রাধিক বন্দি, এমনটিও খবরে উঠে এসেছে।
আমরা একটি কথা বলতে চাই যে, যখন দেয়ালে ফাটলজনিত সমস্যাসহ ভূমিকম্প ও ঝড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা তখন বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারাগারের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই মূল ভবনের ফাউন্ডেশনে কোনো ত্রুটি আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখার যে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা তা বিবেচনা করে উদ্যোগী হওয়া দরকার। নির্মাণ শেষ হওয়ার পরই কারাগারটির দক্ষিণ পাশের ২৫ ফুট উঁচু সীমানা প্রাচীরের বেশির ভাগ অংশেই ফাটল ধরে, এ ছাড়া ফাটল ধরা স্থান তড়িঘড়ি করে নতুন আস্তরণ ও রং দিয়ে চাপা দেয়া হয়। তখন ৬ তলাবিশিষ্ট ৮টি ভবনের অনেক স্থানে ছোট ছোট ফাটল দেখা দেয়Ñ এমন বিষয়ও খবরে উঠে এসেছে। ফলে আমরা মনে করি যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কারাগারটি নির্মাণের সময় নিম্নমানের ইট, ত্রুটিপূর্ণ আসবাবপত্র ও  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম লাগানোর যে অভিযোগ আসছে তা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখতে হবে। স্থানান্তরিত কারাগারটিতে প্রতিনিয়তই কিছু কক্ষের আস্তরণ খসে পড়বে এটা কাম্য হতে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের এই মত বিবেচনা করতে হবে, দেয়ালে ফাটল ধরলে আস্তরণ ফেলে দিয়ে নতুন আস্তরণ লাগিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হয় না। মূল সমস্যা থেকেই যায়। আর এর ফলে দিন দিন ঝুঁকি বাড়তে থাকে। যা পড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। সঙ্গত কারণেই ভবন তৈরির উপকরণ, যেমন ইট, বালু, সিমেন্টের ক্ষেত্রে যথাযথ মান অনুসরণ না করা এবং ফাউন্ডেশনে সমস্যার কারণে এমন হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।
প্রসঙ্গত উল্লেখ করতে চাই, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের একজন অধ্যাপক বলেছেন, অনেক কারণে দেয়ালে ফাটল দেখা দিতে পারে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশনে ত্রুটি থাকার কারণেই ফাটল দেখা দেয়। ফলে কারাগারের মতো একটি স্পর্শকাতর জায়গায় এমন ঘটনা ঘটলে অবশ্যই পরীক্ষা করে দেখা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প থাকতে পারে না।
সর্বোপরি বলতে চাই, বিভিন্ন সময় নানা ধরনের স্থাপনাতে উপকরণ ব্যবহারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এমনকি রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এখন যখন নতুন কারাগারের নির্মাণ ত্রুটিজনিত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন আসছে, তখন তা সুষ্ঠুভাবে খতিয়ে দেখতে হবে এবং সেই মোতাবেক উদ্যোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এমনটিও জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল সন্ধ্যার দিকে ঝড়ো বাতাসে কারাগারের ৯টি বিদ্যুতের খুঁটি হেলে ও ভেঙে পড়ে। ওই দিন সন্ধ্যা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত পুরো কারাগার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। এতে কারা কর্তৃপক্ষকে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়। আমরা চাই, সামগ্রিকভাবে সৃষ্ট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক, যেন সদ্য চালু হওয়া কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here