এসআই চানের অপকর্মে ক্ষুব্ধ এলাকার সাধারণ মানুষ

0

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
SELECT meta_id FROM wp_postmeta WHERE meta_key = 'post_views_count' AND post_id = 22527

WordPress database error: [Table './abichitra_db/wp_postmeta' is marked as crashed and should be repaired]
INSERT INTO `wp_postmeta` (`post_id`, `meta_key`, `meta_value`) VALUES (22527, 'post_views_count', '0')

0

কুড়িগ্রামের রৌমারী থানায় কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) চান মিয়া। নারী নির্যাতন মামলার বাদীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগে নিরীহ বাবা-ছেলেকে মামলায় ফাঁসানোসহ নির্যাতন, নিজে ধর্ষণ করে অন্যকে অভিযুক্ত করা, তাঁর অত্যাচার বিষয়ে পত্রিকায় সংবাদ করায় তিন সাংবাদিককে মিথ্যা মামলার আসামি বানানোর মতো অনেক অভিযোগ আছে।

Advertisement

তাঁর অপকর্মে ক্ষুব্ধ এলাকার সাধারণ মানুষ। মামলার বাদীকে ধর্ষণ : কিছুদিন আগে উপজেলার এক নারী তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুকের অভিযোগ করেন থানায়। অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই চান মিয়া। তিনি তদন্ত করতে গিয়ে গত শুক্রবার সকালে ওই বাদীকে বিয়ে করাসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। স্থানীয় লোকজন চানকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। থানা থেকে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে। মামলার বাদী বলেন, ‘মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে বিয়ে করবে বলে কলেজপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে আসে। কিন্তু বিয়ের আয়োজন না করে আমাকে ঘরে আটকে ধর্ষণ করে।’ নিরীহ বাবা-ছেলেকে অত্যাচার : উপজেলার হাজীরহাট এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসআই চান মিয়া হাজীরহাটের এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছেন। তিনি দিন-রাত মেয়েটিকে মোটরসাইকেলে নিয়ে ঘুরে বেড়ান। একদিন গভীর রাতে চানের মোটরসাইকেল থামান হাজীরহাট বাজারের নৈশপ্রহরী মোস্তাকিন আহমেদ (৪৫)। এতে ক্ষিপ্ত হন চান। মোস্তাকিনের ছেলে হাজীরহাট বাজারের চা দোকানি মোমিনুল ইসলাম ওরফে মনু মিয়ার (২৫) সঙ্গেও মেয়েটির সম্পর্ক ছিল। মেয়েটির সঙ্গে চানের মোবাইল ফোনে কথোপকথনের রেকর্ড সংগ্রহ করেন মনু। মোস্তাকিনের পরিবারের অভিযোগ, গত ৫ এপ্রিল রাতে এসআই চানের নেতৃত্বে রৌমারী থানার ছয় সদস্যের একটি টিম হাজীরহাট বাজারের পাশেই মোস্তাকিনের বাড়িতে এসে মোস্তাকিন ও মনুকে আটক করে। বাড়ির লোকজন কারণ জানতে চাইলে পুলিশ তাদের বেধড়ক পেটায়। থানা হাজতে আটকে মোস্তাকিন ও মনুকে অমানুষিক নির্যাতন চালায় পুলিশ। একপর্যায়ে তাঁরা অচেতন হয়ে পড়লে রাত ৪টার দিকে তাঁদের রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে ১০ জানুয়ারি উপজেলার কাওয়ারচর গ্রামের দিনমজুর কদম আলী (৪০) হত্যা মামলায়  আদালতে পাঠানো হয় বাবা-ছেলেকে। সাংবাদিককে আসামি : পুলিশের ওই অত্যাচার নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে এসআই চান মিয়া সাংবাদিকদের ফাঁসাতে মিথ্যা ঘটনার জন্ম দেন। যে মেয়েটির সঙ্গে চানের সম্পর্ক সেই মেয়ের ভাইকে দিয়ে চান থানায় ১০ এপ্রিল একটা অভিযোগ আনেন। অভিযোগ বলা হয়, ‘৫ এপ্রিল একই এলাকার মোমিনুল ইসলাম তাঁর পিতা, মামা ও মাকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসে। মোমিনুল আমার বোনকে বিয়ে করবে বলে নিয়ে যেতে চায়। আমরা রাজি না হলে ঘরে বোনকে আটকে রেখে মোমিনুল ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় আমার বোন থানায় অভিযোগ দিতে গেলে রাস্তায় কতিপয় সাংবাদিক বোনকে হুমকি দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।’ পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে ডাক্তারি পরীক্ষা ও জবানবন্দির জন্য মেয়েটিকে কুড়িগ্রাম ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায় বলে থানা সূত্র জানায়। মামলা রেকর্ডভুক্ত হওয়ার পরদিন ১১ এপ্রিল এসআই চান মেয়েটিকে নিয়ে কুড়িগ্রাম শহরের শাপলা চত্বরসংলগ্ন আবাসিক ‘মেহেদি হোটেলে’ রাত্রি যাপন করেন। রাতে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন চান। ১২ এপ্রিল মেয়েটিকে জবানবন্দি দিতে আদালতে নিয়ে যান। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে কী বলতে হবে আগে শিখিয়ে দেন চান। সেই শেখানো কথায় মেয়েটি তিন সাংবাদিক তাঁকে থানায় মামলা করতে বাধা দিয়েছেন বলে মিথ্যা অভিযোগ করে। নিজে ধর্ষণ করে অন্যকে ফাঁসানোর চেষ্টা : তথ্য প্রমাণে জানা গেছে, ১২ এপ্রিল রাতে কুড়িগ্রাম শহরের মেহেদি হোটেলে ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন এসআই চান মিয়া। পরে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মেয়েটিকে নেন কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে। সেখানে আরএমও ডা. শাহীনুর রহমান সরদার মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা করে ধর্ষণের আলামত পান। কিন্তু সমস্যা হয়, যাকে (মনু) ধর্ষণে অভিযুক্ত বানানো হবে তিনি তখন জেলখানায়। তাই ডাক্তারি প্রতিবেদনে ঘটনার সময় ৫ এপ্রিল উল্লেখ করতে ডাক্তারকে অনুরোধ করেন চান। কিন্তু ডা. শাহীনুর বলেন, ‘১২ থেকে ২০ ঘণ্টা আগে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমি সাত দিন আগের তারিখ দিতে পারব না।’ পরে চান ডাক্তারি প্রতিবেদন ছাড়াই মেয়েটিকে নিয়ে চলে যান। ডা. শাহীনুর এ তথ্য জানান। পুলিশের বক্তব্য : অভিযুক্ত এসআই চান মিয়া বলেন, ‘হাজীরহাটের এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক আছে। মেয়েটি ভালো গান গাইতে পারে। আমি গান ভালোবাসি। তাই মেয়েটির সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়। তাদের বিপদে আমি অর্থ সহায়তা করি। এলাকার মোমিনুল ইসলাম মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করে। তাকে ধর্ষণও করে। মেয়েটি এলে আমরা সহযোগিতা করেছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তাই মেয়েটিকে কুড়িগ্রাম আদালতে নিয়ে গেছি। সে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে রৌমারীর তিন সাংবাদিকের নাম বলেছে যারা তাকে থানায় যেতে বাধা দিয়েছে। আমরা বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখছি।’ তিনি বলেন, ‘কুড়িগ্রামে আবাসিক হোটেলে ছিলাম, কিন্তু আলাদা কক্ষে।’ বিষয়গুলো প্রসঙ্গে রৌমারী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি এত কিছু জানি না।’

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here